ব্রেকিং নিউজঃ
 
Sat, 16 Dec, 2017

 

 

 

 

     
 

গালমন্দ করা নিকৃষ্ট স্বভাব

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ মাওলানা মুনীরুল ইসলাম/ ধর্ম/ ১০ জানুয়ারি/ পৃথিবীরসব ধর্মেই গালমন্দ করা অত্যন্ত নিকৃষ্ট কাজ। মুনাফিক ব্যক্তিই অন্যেরসঙ্গে কলহ-বিবাদে লিপ্ত হলে মুখ খারাপ করে এবং অবলীলায় অশ্রাব্য গালমন্দশুরু করে দেয়।

যাপিত জীবনে কত রকম মানুষের সঙ্গেই মেলামেশা ও লেনদেন করতেহয়। এতে কখনো কখনো মতের অমিল দেখা দেয় এবং মাঝে মধ্যে তা কলহ-বিবাদ পর্যন্তগড়ায়। যাপিত জীবনে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু একজন প্রকৃত মুমিন কোনোঅবস্থাতেই মুখ খারাপ করতে পারেন না। সবসময় তিনি নিজ ভদ্রতা, নৈতিকতা ওমূল্যবোধের ব্যাপারে সচেতন থাকবেন। দৃষ্টিভঙ্গিগত মতভেদ হোক, চিন্তা-চেতনারঅমিল হোক, রাজনৈতিক কিংবা ব্যবসায়িক বিরোধ হোক, কোনো অবস্থাতেই একজন মুমিনতার মুখ দিয়ে মন্দ বাক্য উচ্চারণ করবেন না। হাদিস শরিফে আল্লাহর রাসুল (সা.) মুসলমানের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তিকে মুসলমান বলা হয়, যার হাত ও মুখ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে।তাই কখনোই মুখ দ্বারা এমনআচরণ করা যাবে না যার দ্বারা মানুষ কষ্ট পায়। হাদিসের দৃষ্টিতে এরূপ করাটামুনাফিকের আলামত। মুনাফিক একটি নিকৃষ্ট শব্দ। আমাদের সমাজে কিছু মুসলমানরয়েছেন যারা নামে ইসলামকে ব্যবহার করেন কিন্তু কাজে নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)এর আমলেও এ ধরনের মুসলমান ছিল। তাদের কারণে তখনো মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তিসৃষ্টি হয়েছিল। মুনাফিকরা মানুষের সামনে এক ধরনের এবং পেছনে আরেক ধরনেরআচরণ করে থাকে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)এরশাদ করেছেন, ‘চারটি স্বভাব এমন যার সবগুলো কারো মধ্যে থাকলে সেপুরোদস্তুর মুনাফিক, আর যার মধ্যে তার কোনো একটি থাকবে, সে যতক্ষণ তাপরিত্যাগ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকির একটি স্বভাবই থাকবে।স্বভাব চারটি হচ্ছে যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে তাতে খেয়ানত করে, যখনকথা বলে মিথ্যা বলে, যখন কোনো ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন কারো সঙ্গেঝগড়া করে গালিগালাজ করে (বুখারি ও মুসলিম)। সমাজে যারা গালমন্দ করে, যাদেরমুখের ভাষা খারাপ, তাদের সমাজ ভালো চোখে দেখে না এবং অন্তর থেকে মানুষেরসম্মান পায় না। তাই আমরা গালিগালাজসহ সবধরনের মন্দ স্বভাব পরিহার করেআল্লাহর দরবারে একজন খাঁটি মুমিন বান্দা হওয়ার চেষ্টা করব।
লেখক : ধর্মীয় গবেষক

সংবাদ শিরোনাম