ব্রেকিং নিউজঃ
 
Wed, 17 Jan, 2018

 

 

 

 

     
 

কক্সবাজারে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, নিহত ১

বাংলাদেশ বার্তা ২৪.কম/ কক্সবাজার/ ৩০ জুলাই/ কক্সবাজার উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় কোমেন। কোমেনের প্রভাবেসমুদ্র উত্তাল রয়েছে। এতে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। নারকেল গাছ চাপাপড়ে মোহাম্মদ ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজারসমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে

যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকরাইজিংবিডিকে জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পরএটি এখন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। যার নামকরণ করা হয়েছেকোমেন। ঘূর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ চট্টগ্রাম, বরিশাল, কক্সবাজারউপকূলে আঘাত হানতে পারে। তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সেন্টমার্টিনদ্বীপ ও টেকনাফে আঘাত এনেছে ঘূর্ণিঝড় কোমেন এটি কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরপশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি ক্রমেই উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, বাহারছড়ায়শতাধিক ঘর ও অসংখ্য গাছ বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায়সেন্টমার্টিন দ্বীপে নারকেল গাছ চাপা পড়ে মোহাম্মদ ইসলাম নামের এক ব্যক্তিরমৃত্যু হয়েছে। সে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার মৃত মো. অলি আহমদেরছেলে। সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন রাইজিংবিডিকেজানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বুধবার দুপুর থেকেসেন্টমার্টিন দ্বীপে ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে। রাতে এ ঝোড়ো হাওয়ার মাত্রাদিনের বেলার চাইতে আরো তীব্র হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ঝোড়ো হাওয়ায় উপড়ে যাওয়া নারিকেল গাছ চাপা পড়ে ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। সেন্টমার্টিনকোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার ডিকসন চৌধুরী রাইজিংবিডিকে, রাত থেকেবৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনাহয়েছে। তবে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণপাড়া ওপশ্চিমপাড়ায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক গাছপালাউপড়ে পড়েছে। টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম রাইজিংবিডিকে জানান, টেকনাফেভোরে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় শাহপরীর দ্বীপ, বাহারছড়া ও সাবরাং এলাকায়অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ২০ জনের অধিক লোকজন আহতহয়েছেন। তিনি আরো জানান, উপকূলের মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে সরে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। এদিকেভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা রাইজিংবিডিকে জানান, কক্সবাজারের৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ২৮ ইউনিয়নের মানুষকে ৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াহয়েছে। ওখানে ৮৮টি মেডিক্যাল টিমসহ তদারকির জন্য আলাদা কমিটি গঠনকরা হয়েছে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমান চলাচলও বন্ধকরা হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের মাইকিংয়ের পর উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারাআশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছে। রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন কম থাকলেও সকালথেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করে।